পশ্চিম এশিয়ার অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধাবস্থা এবার সরাসরি প্রভাব ফেলল ফুটবল বিশ্বে। যুদ্ধের দাবানলে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে ইরাকের বিশ্বকাপ যাত্রার প্রস্তুতি, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় কোপে পড়ে দেশ ছাড়ার উপক্রম হয়েছে ইরানের মহিলা ফুটবল দলের।
বিশ্বকাপ প্লে-অফের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে কার্যত ভেঙে পড়েছে ইরাকের জাতীয় দলের প্রস্তুতি শিবির। দলের কোচ ফিফার কাছে সরকারিভাবে আবেদন জানিয়েছেন যেন প্লে-অফ ম্যাচগুলো পিছিয়ে দেওয়া হয়। তার মূল কারণগুলো হলো ইরাকের জাতীয় দলের বড় একটি অংশ দেশের ঘরোয়া লিগে খেলেন। যুদ্ধাবস্থার কারণে বর্তমানে ইরাকের আকাশপথ বন্ধ রয়েছে। বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় দেশের ভেতরে থাকা ফুটবলাররা বিদেশের মাটিতে আয়োজিত দলের মূল প্রস্তুতি শিবিরে যোগ দিতে পারছেন না। কোচ জানিয়েছেন, মাঠের কৌশলের চেয়ে এখন ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত তারা। এই অবস্থায় প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক অস্থিরতার শিকার ইরানের মহিলা ফুটবল দল। সম্প্রতি একটি ম্যাচে ইরানের রাষ্ট্রীয় নিয়ম ভেঙে জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ায় বড়সড় রোষের মুখে পড়েছেন ফুটবলাররা। ইরানি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, দেশে ফিরলে ফুটবলারদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, ইরানের মহিলা দলকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিতে পারে অস্ট্রেলিয়া। ইতিমধ্যে এ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফুটবল অস্ট্রেলিয়া এবং সে দেশের সরকার ফুটবলারদের দীর্ঘমেয়াদী ভিসা ও নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
পশ্চিম এশিয়ার এই সংকট নিয়ে ফিফা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ফুটবলারদের নিরাপত্তা এবং টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়া বা সময়সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল।