বাংলার রাজনৈতিক মহলে এখন টানটান উত্তেজনা। প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হচ্ছে প্রথম দফার নির্বাচন। লোকসভা নির্বাচনের এই মহাযজ্ঞকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে এখন শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। উত্তরের জেলাগুলোতে ভোটের দামামা বেজে উঠতেই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে পৌঁছেছে।
প্রস্তুতির মূল চিত্র
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো খামতি রাখা হচ্ছে না। প্রথম দফায় মূলত উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অশান্তি রুখতে এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে প্রতিটি বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানোর পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে এরিয়া ডমিনেশন বা টহলদারির কাজ।
কর্মীদের তৎপরতা ও ডিসিআরসি কেন্দ্র
ভোটের আগের দিন থেকেই ডিসিআরসি (DCRC) কেন্দ্রগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসাররা ইভিএম (EVM), ভিভিপ্যাট (VVPAT) এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে নিজেদের নির্দিষ্ট বুথের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে ভোটকর্মীদের পৌঁছাতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, তার জন্য বিশেষ যাতায়াত ব্যবস্থার আয়োজন করেছে কমিশন। প্রচণ্ড গরমের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি বুথে পানীয় জল, ওআরএস (ORS) এবং ছায়ার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও সাধারণ মানুষ
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার অভিযান শেষ হয়েছে আগেই। এখন চলছে ঘরোয়া স্তরে শেষ মুহূর্তের অঙ্ক কষার পালা। ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে নতুন ভোটাররা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে মুখিয়ে আছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজ্যবাসীর নজর এখন ব্যালট বক্সের দিকে। কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা বুথগুলোতে শেষ পর্যন্ত কতটা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। গণতন্ত্রের এই উৎসবে জনমত কোন দিকে যায়, তার প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলবে এই প্রথম দফার ভোটেই।