অঙ্কিত সিনহা :
রাজ্যের বিচারবিভাগীয় ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। কলকাতা হাইকোর্টসহ আসানসোল এবং বহরমপুরের একাধিক আদালতে একই দিনে বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় উৎস থেকে আসা হুমকিতে মুহূর্তের মধ্যে খালি করে দেওয়া হয় আদালত কক্ষ। নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ বন্ধ রেখে বাইরে বেরিয়ে আসেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।
আজ সকালে আচমকাই ইমেইল বা ফোন মারফত (সূত্র অনুযায়ী) আদালত ভবন উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন উপস্থিত সাধারণ মানুষ।
- কলকাতা: শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আদালত চত্বরে পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াড দ্রুত পৌঁছায়। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানো হয় প্রতিটি কোণায়।
- আসানসোল: আদালত চলাকালীন এই হুমকিতে বিচারপ্রক্রিয়া থমকে যায়। আইনজীবীরা কালো কোট গায়েই আদালত চত্বরের বাইরে নিরাপদ আশ্রয়ে বেরিয়ে আসেন।
- বহরমপুর: জেলা আদালতের ভেতরে ও বাইরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। পুলিশি পাহারায় আদালত কক্ষগুলো থেকে সকলকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
- হুগলী : চুঁচুড়া : বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হবে! ইমেল-হুমকিতে বোমাতঙ্ক চুঁচুড়া আদালতে
- আজ, মঙ্গলবার সকালে কর্মব্যস্ত সময়ে চুঁচুড়া আদালতে বোমাতঙ্ক ছড়ায়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে জেলা জজের কাছে ইমেল মারফত ওই হুমকি আসে। তারপরই কার্যত হুলুস্থুল পড়ে যায় আদালত চত্বরে। পুলিশ কমিশনারেট থেকে দ্রুত পুলিশ আদালত চত্বরে পৌঁছে যায়।
- আদালত ফাঁকা করে শুরু হয় তল্লাশি। এই তল্লাশি অভিযানে আনা হয়েছে বম্ব স্কোয়াড, গোটা আদালত চত্বরে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
- পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াড বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। গোটা আদালত চত্বর ঘিরে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় চলে তল্লাশি। তবে এখনো পর্যন্ত কিছু পাওয়া যায় নি।
এখনও পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন বস্তুর হদিস পাওয়া না গেলেও পুলিশ প্রশাসন কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। প্রত্যেকটি আদালতে তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে।
আইনজীবীদের বয়ান: “আমরা কাজ করছিলাম, হঠাৎ শুনি আদালত খালি করার নির্দেশ এসেছে। নিরাপত্তার কথা ভেবেই আমরা সবাই বাইরে চলে আসি। বার বার এই ধরনের ঘটনায় আদালতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।”
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আতঙ্ক ছড়াতেই পরিকল্পিতভাবে এই ভুয়া হুমকি (Hoax Call) দেওয়া হয়েছে। তবে এর পেছনে কোনো বড় ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।