আফগানিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন তারকা ব্যাটার Jonathan Trott। গত চার বছরে তিনি শুধু কোচের দায়িত্বই পালন করেননি, গড়ে তুলেছেন এক আত্মবিশ্বাসী, লড়াকু ও পরিণত দল। আর সেই অধ্যায়েরই ইতি টানলেন ট্রট—বিদায়বেলায় চোখে জল, কণ্ঠে আবেগ।
২০২২ সালে আফগান জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বদলে যেতে শুরু করে দলের মানসিকতা ও কৌশল। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা, বড় টুর্নামেন্টে সাহসী পারফরম্যান্স এবং শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে জয়ের মানসিকতা—সবকিছুর পিছনেই ছিল ট্রটের পরিকল্পনা ও বিশ্বাস।
বিশেষ করে আইসিসি টুর্নামেন্টে আফগানিস্তানের নজরকাড়া পারফরম্যান্স ক্রিকেটবিশ্বকে চমকে দিয়েছে। তরুণ ক্রিকেটারদের দক্ষতা বাড়ানো, ফিটনেসে জোর এবং ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা—এই তিন মন্ত্রেই দলকে ‘সাবালক’ করে তুলেছেন তিনি।
বিদায়বার্তায় ট্রট বলেন,
“এই চার বছরে আফগান দল শুধু আমার টিম ছিল না, তারা আমার পরিবার হয়ে উঠেছিল। তাদের অগ্রগতি দেখে আমি গর্বিত।”
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রটের আমলে আফগানিস্তান শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করেনি, বরং নিজেদের একটি শক্তিশালী ক্রিকেট শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর বিদায়ে দল যে আবেগপ্রবণ, তা স্পষ্ট খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়াতেই।
এখন নতুন কোচের হাত ধরে আফগান ক্রিকেট কোন পথে এগোয়, সেটাই দেখার। তবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়—ট্রটের চার বছরের অধ্যায় আফগান ক্রিকেটের স্বর্ণযুগ হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।