পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি জনাকীর্ণ মসজিদে জুমার নামাজের সময় এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক মানুষ, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই ঘটনাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নামাজ চলাকালীন সময় হামলাকারী মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে নিজের দেহে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের একাংশ ধসে পড়েছে। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
ঘটনার পরপরই পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই ন্যাক্কারজনক হামলার নেপথ্যে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার ‘যোগসাজশ’ থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, প্রতিবেশী দেশ সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, প্রাথমিক তদন্তে তারা এমন কিছু সূত্র পেয়েছে যা প্রতিবেশী দেশের সংশ্লিষ্টতার দিকে ইঙ্গিত দেয়।
পাকিস্তানের এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
“নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যর্থতা ঢাকতে প্রতিবারই ভারতের ওপর দোষ চাপানো পাকিস্তানের একটি পুরনো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আমরা যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে নাকচ করছি।”