আমেরিকা-ইরান সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি পড়ল বিশ্ব অর্থনীতিতে। যুদ্ধের রণকৌশল হিসেবে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একলাফে আকাশছোঁয়া হয়েছে। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সরু কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের মতো দেশগুলোর কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই সরু জলপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত এবং ইরাকের মতো দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ায় তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস পাঠায়। ইরান এই পথটি নিয়ন্ত্রণ করার অর্থ হলো— বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইনটি হাতের মুঠোয় রাখা।
ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৮৫% অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। তেলের দাম বাড়লে দেশে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের দাম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমেরিকা-সহ পশ্চিমী দেশগুলোর শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এখন মাঝসমুদ্রে আটকা পড়ে আছে। ইরানের নৌবাহিনী এই প্রণালীতে কড়া নজরদারি শুরু করায় জাহাজগুলো রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে খরচ এবং সময় দুই-ই বাড়ছে। ভারতের বিশাল পরিমাণ রফতানি পণ্য এই পথেই ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যায়। দীর্ঘ সময় এই পথ বন্ধ থাকলে ভারতের কয়েক হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যিক ক্ষতি হতে পারে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি যুদ্ধে আমেরিকার মোকাবিলা করা কঠিন জেনে ইরান এখন ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ পথ বেছে নিয়েছে। হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে তারা বিশ্ব অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে চাইছে, যাতে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল পিছু হটতে বাধ্য হয়।