IMG 20260221 WA0007

ওয়াশিংটন: আমেরিকার বাণিজ্যনীতিতে বড়সড় রদবদল আনতে গিয়ে আইনি মারপ্যাঁচে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত পূর্ববর্তী কিছু শুল্ককে আদালত ‘বেআইনি’ বলে ঘোষণা করায় এখন কোটি কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার প্রশ্ন উঠছে। তবে দমে যাওয়ার পাত্র নন ট্রাম্প; একদিকে আইনি লড়াই, অন্যদিকে সমস্ত আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০% নতুন শুল্ক বসিয়ে রাজকোষ ভরার এক বিকল্প ছক কষছেন তিনি।

সম্প্রতি মার্কিন আদালতের একটি রায়ে জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর চাপানো শুল্ক যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি, যা আইনিভাবে ত্রুটিপূর্ণ। এই রায়ের পর আমদানিকারক ও ব্যবসায়িক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে: যদি আদালত চূড়ান্তভাবে এই শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে, তবে সরকার সংগৃহীত কোটি কোটি ডলার ব্যবসায়ীদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা অবশ্য এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত বা বাতিল করা যায়।

আদালতের এই ধাক্কা সামলাতে ট্রাম্প এক নতুন ‘ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ’ (Universal Baseline Tariff) এর পরিকল্পনা করেছেন। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  1. সার্বজনীন ১০% শুল্ক: আমেরিকা যত পণ্য আমদানি করবে, তার ওপর সরাসরি ১০% শুল্ক আরোপ করা।
  2. আমদানি কমানো, আয় বাড়ানো: এর মাধ্যমে একদিকে যেমন বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে, অন্যদিকে শুল্ক বাবদ সরকারের আয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
  3. আদালতকে পাশ কাটানো: নির্দিষ্ট দেশের বদলে ঢালাওভাবে আইন প্রণয়ন করে এই শুল্ক বসানোর চিন্তা করছেন তিনি, যাতে ভবিষ্যতে আদালত একে ‘বৈষম্যমূলক’ বলতে না পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ দ্বিমুখী তলোয়ারের মতো। একদিকে এটি মার্কিন উৎপাদনকারীদের সুরক্ষা দেবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *