গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন উত্তরবঙ্গ হঠাৎই কেঁপে উঠল তীব্র কম্পনে। গতকাল রাত ২টো ২০ মিনিট নাগাদ অনুভূত হওয়া এই ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি এবং সিকিমের বাসিন্দারা। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৩।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা, যা মাটির প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত। কম্পনটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হলেও এর তীব্রতা উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকাতেও কম্পন টের পাওয়া গেছে।
এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুরনো কিছু বাড়িতে ফাটল ধরার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে পর্যটন মরসুম চলায় দার্জিলিং ও সিকিমে প্রচুর পর্যটক রয়েছেন। মাঝরাতের এই কম্পনে হোটেলের আবাসিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে (DDRF) সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
কলকাতায় এই কম্পনের কোনো সরাসরি প্রভাব পড়েনি। তবে হিমালয়ের পাদদেশ সংলগ্ন এলাকায় বারবার এই মৃদু কম্পন বড় কোনো ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন ভূতত্ত্ববিদরা। আবহাওয়া আধিকারিকদের মতে, পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা ‘আফটার শক’-এর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তাই বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।