তিলোত্তমার মুকুটে যুক্ত হলো নতুন পালক। মধ্য কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে ঐতিহ্যের আভিজাত্য আর আধুনিক চিকিৎসার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণে উদ্বোধন হলো ‘চার্নক লোহিয়া হাসপাতাল’। এটি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বেসরকারি হেরিটেজ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, যা প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি গ্রেড-১ হেরিটেজ ভবনে (প্রাক্তন লোহিয়া মাতৃ সেবা সদন) প্রাণদান করে গড়ে তোলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক রাজকীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই হাসপাতালের পথচলা শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু এবং সাংসদ দোলা সেন। এছাড়াও বিধায়ক বিবেক গুপ্ত, দেবপ্রসাদ বাগ এবং চার্নক হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রশান্ত শর্মা সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন।

প্রায় ৪ বিঘা জমির ওপর বিস্তৃত এই হাসপাতালটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ২৫০ কোটি টাকারও বেশি। এর বিশেষত্ব হলো এর স্থাপত্য। নিও-ক্লাসিক্যাল গ্রীক ও রোমান স্থাপত্যশৈলীর এই ভবনটির বাইরের হেরিটেজ রূপ অক্ষুণ্ণ রেখে ভেতরে বসানো হয়েছে বিশ্বমানের চিকিৎসা সরঞ্জাম।
গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশনের মাত্র ৫০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত এই হাসপাতালটি বড়বাজার, জোড়াসাঁকো, নিমতলা ঘাট স্ট্রিট এবং বিবেকানন্দ রোডের বাসিন্দাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।

“উত্তর ও মধ্য কলকাতার একটি বিশাল অংশে আধুনিক বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের অভাব ছিল। চার্নক লোহিয়া হাসপাতাল সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে। আমরা প্রমাণ করেছি যে হেরিটেজ সংরক্ষণ এবং আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।” — প্রশান্ত শর্মা, এমডি, চার্নক হাসপাতাল
একসময় এই ভবনটি বাংলার অভিজাত পরিবারের প্রাসাদ ছিল। পরবর্তীকালে এটি ‘লোহিয়া মাতৃ সেবা সদন’ নামে মাতৃ ও শিশু সেবা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়। বর্তমানে চার্নক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই জরাজীর্ণ ভবনটিকে সংস্কার করে একটি সম্পূর্ণ NABH স্বীকৃত সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রূপান্তরিত করেছে।