Your paragraph text (5)

কলকাতা: পূর্ব কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বেআইনি নির্মাণের রমরমা নিয়ে এবার কলকাতা পুরসভাকে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিংহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুরসভা যদি এই বেআইনি নির্মাণগুলি ভাঙার বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে এই কাজ সম্পন্ন করা হবে। বিচারপতির এই কড়া মনোভাব পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনকে বড়সড় অস্বস্তিতে ফেলেছে।

সম্প্রতি পূর্ব কলকাতার একাধিক এলাকায়, বিশেষ করে তিলজলা, তপসিয়া, ও কসবা অঞ্চলে বহুতল বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে হাইকোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। মামলাকারীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন ও পুরসভার কিছু অসাধু আধিকারিকের যোগসাজশে এই নির্মাণগুলি বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠছে, যা নাগরিক সুরক্ষা ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।

গত কয়েক মাস ধরে এই মামলাগুলির শুনানি চলাকালীন আদালত বারবার পুরসভাকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিলেও, বাস্তবে খুব কম ক্ষেত্রেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরসভার দাখিল করা রিপোর্টেও এই বিষয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি বিচারপতি।

বিচারপতি সিংহ তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, “পুরসভা কি শুধুমাত্র কাগজ-কলমে কাজ করছে? দিনের পর দিন বেআইনি নির্মাণগুলো বাড়ছে, অথচ আপনাদের কোনো হেলদোল নেই। এই শহরটাকে কি জঙ্গল বানাতে চান? নাগরিকদের নিরাপত্তা কি আপনাদের কাছে কোনো গুরুত্ব রাখে না?”

আদালত কক্ষের নীরবতার মধ্যে বিচারপতি সিংহ কঠোর কণ্ঠে মন্তব্য করেন, “যদি পুরসভা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত বসে থাকবে না। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ডেকে এই বেআইনি কাঠামো ভাঙার কাজ শুরু হবে। তার সম্পূর্ণ খরচ পুরসভাকে বহন করতে হবে।” এই মন্তব্যের পর আদালত কক্ষে উপস্থিত সকলের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

পুরসভার আইনজীবী অবশ্য আদালতে জানান, তারা বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা এবং স্থানীয় প্রতিরোধের কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। তবে বিচারপতির এই কঠোর হুঁশিয়ারি পুরসভার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মধ্যে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ সৃষ্টি করেছে।

আদালত পুরসভাকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা এবং গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। এই ঘটনা পূর্ব কলকাতার বেআইনি নির্মাণকারীদের মধ্যেও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *