মৌমিতা সিনহা : ভোর হতেই বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি এক অন্যরকম দৃশ্যের সাক্ষী হলো। দিগন্তজোড়া জলসীমায় একের পর এক যুদ্ধজাহাজের সারি। মাথার ওপর দিয়ে গর্জন করে উড়ে যাচ্ছে অত্যাধুনিক ফাইটার জেট, আর সমুদ্রের বুক চিরে এগিয়ে চলছে দানবীয় সব রণতরি। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কেন্দ্রে এখন ভারতের বিশাখাপত্তনম। আর সেখানেই সগৌরবে উড়ছে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে শুরু হওয়া এই আন্তর্জাতিক নৌ মহড়াকে অনেকে বলছেন নৌ-শক্তির ‘অলিম্পিক’। সাধারণ কোনো আয়োজন নয় এটি; ভারতসহ বিশ্বের দাপুটে ৭০টি দেশের নৌবাহিনী এখানে এক হয়েছে। উদ্দেশ্য? সমুদ্রকে নিরাপদ রাখা এবং নিজেদের শক্তি ও বন্ধুত্বের এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি করা।

সব দেশের চোখ যখন সমুদ্রের দিগন্তে, তখন সবার নজর কেড়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সুসজ্জিত যুদ্ধজাহাজ ‘সমুদ্র অভিযান’। নীল সমুদ্রের ওপর যখন বাংলাদেশের এই জাহাজটি এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন তা কেবল একটি রণতরি ছিল না; বরং তা ছিল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় আমাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রতীক।

কেবল শক্তি প্রদর্শন নয়, এই মহড়ার আড়ালে রয়েছে গভীর এক ঐক্য। সমুদ্রের বুকে বেড়ে চলা জলদস্যুতা, চোরাচালান আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বড় বিপদগুলো একলা মোকাবিলা করা অসম্ভব। তাই ৭০টি দেশ আজ এক ছাতার নিচে। একে অপরের কৌশল শিখছে, প্রযুক্তির বিনিময় করছে এবং বিশ্বকে বার্তা দিচ্ছে—”আমরা এক”। ৭০ দেশের নৌ-সেনারা একে অপরের সাথে মিলে কাল্পনিক শত্রু দমনের মহড়া দিচ্ছে।হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং থেকে শুরু করে গভীর সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান—সবই চলছে চোখের পলকে।বন্দুকের গর্জনের মাঝেই চলছে হাসিমুখে করমর্দন, যা সুদৃঢ় করছে বাংলাদেশ-ভারতসহ অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশের সম্পর্ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *