দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে কোনো নেতিবাচক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করা হলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এবার সরাসরি এনসিইআরটি (NCERT)-র পাঠ্যবইয়ের প্রসঙ্গ টেনে এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি। সাফ জানালেন, স্কুল স্তরের পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হলে আদালত কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
সম্প্রতি একটি মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতির নজরে আসে যে, এনসিইআরটি-র কোনো কোনো পাঠ্যবইয়ে বিচারবিভাগ সম্পর্কে এমন কিছু মন্তব্য বা ব্যাখ্যা রয়েছে যা তরুণ প্রজন্মের মনে আদালত সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। প্রধান বিচারপতির মতে, গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো বিচারবিভাগ, এবং এই স্তম্ভের প্রতি সম্মান ও বিশ্বাস বজায় রাখা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি যে বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়েছেন – 1.পাঠ্যবইয়ে আদালতের রায় বা বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে যদি বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের বদলে ব্যক্তিগত মতামত বা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়, তবে তা বিপজ্জনক। 2. ‘বিচারব্যবস্থার অবমাননা’ বা Contempt of Court কোনো হালকা বিষয় নয়। এনসিইআরটি-র মতো দায়িত্বশীল সংস্থার বইয়ে তথ্যের নির্ভুলতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। 3.স্কুলের ছেলেমেয়েরা যা পড়ে, তা দিয়েই তাদের মানসিকতা গঠিত হয়। সেখানে বিচারবিভাগকে দুর্বল বা পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে তুলে ধরা হলে বিচারব্যবস্থার ওপর জনমানসের আস্থা কমবে।
প্রধান বিচারপতি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এনসিইআরটি-র বইয়ে যদি বিচারবিভাগকে ছোট করে দেখানোর কোনো প্রচেষ্টা নজরে আসে, তবে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কড়া পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট অংশ দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সমালোচনা গ্রহণযোগ্য, কিন্তু অবমাননা নয়। পাঠ্যক্রমে এমন কোনো বিষয় থাকা উচিত নয় যা দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি অশ্রদ্ধা তৈরি করে।
আদালত সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এনসিইআরটি-র রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বইগুলোতে ঠিক কী লেখা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ নেওয়া হতে পারে। যদি আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায়, তবে শিক্ষামন্ত্রকের কাছে জবাবদিহি চাইতে পারে সুপ্রিম কোর্ট।