অঙ্কিত সিনহা : সাতসকালে কেন্দ্রীয় সংস্থার হানায় সরগরম শিল্পাঞ্চল। কয়লা পাচার কাণ্ডের শিকড় খুঁজতে বুধবার ভোররাত থেকে আসানসোল ও দুর্গাপুরের একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এই অভিযানে দুর্গাপুরের এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে খবর, যা নিয়ে ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে।
আজ বুধবার ভোরে সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানদের বিশাল বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপুর ও আসানসোলের অন্তত ৫ থেকে ৬টি জায়গায় হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের তালিকায় রয়েছেন কয়লা কারবারের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু ব্যবসায়ী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠরা।
সূত্রের খবর, দুর্গাপুরের এক বড় মাপের ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চলাকালীন আলমারি ও লকার থেকে থরে থরে সাজানো নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ কয়েক কোটি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টাকা গণনার জন্য ইতিমধ্যেই ইডি-র পক্ষ থেকে ব্যাংক কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং নিয়ে আসা হয়েছে টাকা গোনার মেশিন।
কয়লা পাচারের টাকা কোন পথে প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছাত এবং কোন কোন ব্যবসায়ীর মাধ্যমে এই টাকা সাদা করা হতো, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।আবাসন ও অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু ল্যাপটপ এবং হার্ডডিস্ক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।কয়লা খনি সংলগ্ন এলাকাগুলোতে পাচারের নেটওয়ার্ক কীভাবে চলত, সেই বিষয়ে ধৃত ও অভিযুক্তদের বয়ান মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।আসানসোলের চিত্তরঞ্জন ও রানিগঞ্জ সংলগ্ন এলাকাতেও বেশ কিছু বাড়িতে তল্লাশি চলছে। এই অভিযানের ফলে শিল্পাঞ্চলের ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া নথির ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করা হতে পারে।