আসানসোল: সাতসকালে আসানসোলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ঘর থেকে উদ্ধার হলো এক মহিলার ঝলসানো মৃতদেহ। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে তাঁর ছেলেরও। একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে এটি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য, তা নিয়ে ধন্দে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে খবর, আসানসোলের একটি জনবহুল এলাকায় ওই মহিলার ঘর থেকে হঠাৎই আগুনের লেলিহান শিখা বেরোতে দেখেন প্রতিবেশীরা। চিৎকার শুনে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। খবর দেওয়া হয় দমকল ও পুলিশে। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ওই বৃদ্ধা। তাঁর শরীর প্রায় সম্পূর্ণ ভস্মীভূত। অন্যদিকে, পাশের ঘরে ছটফট করছিলেন তাঁর ছেলে, তাঁর শরীরেও ছিল মারাত্মক পোড়ার ক্ষত।

দ্রুত উদ্ধার করে ছেলেকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থার অবনতি দেখে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি; চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে এটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বা শর্ট সার্কিট মনে করা হলেও, ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠছে: ঘরের ঠিক কোন জায়গা থেকে আগুনের সূত্রপাত হলো, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার সময় ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল নাকি বাইরে থেকে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ওই পরিবারে কোনও মানসিক অবসাদ বা অশান্তি ছিল কি না, তা জানতে আত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

আসানসোল পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের খবর দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই বোঝা যাবে এটি পরিকল্পিত খুন, আত্মহত্যা নাকি নিছক দুর্ঘটনা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *