সীমান্ত সংঘাত ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে আবারও উত্তপ্ত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি। রবিবার গভীর রাতে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হানা চালায় পাকিস্তান বায়ুসেনা। ইসলামাবাদের দাবি, এই অভিযানে অন্তত ৭০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে এই হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে ভারত এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছে।
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া একাধিক আত্মঘাতী বোমা হামলার বদলা নিতেই এই ‘অপারেশন’ চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের দাবি: আফগানিস্তানের নঙ্গরহার এবং পকতিকা প্রদেশে অন্তত ৭টি জঙ্গি আস্তানায় নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে।নিহতরা মূলত নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) এবং আইএস-কেপি (ISKP)-র সদস্য।পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাত চৌধুরীর দাবি, “আফগান ভূমি ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাস রফতানি করা হচ্ছে, যা আর সহ্য করা হবে না।”
পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন:
“ভারত দৃঢ়ভাবে আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের এই বিমান হামলার নিন্দা জানাচ্ছে। এই হামলায় নারী ও শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি আসলে পাকিস্তানের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরানোর একটি মরিয়া চেষ্টা মাত্র।”
ভারত পুনরায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা সর্বদা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার পাশে রয়েছে।
আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এই হামলাকে তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। কাবুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে: হামলায় কোনো জঙ্গি নয়, বরং সাধারণ মানুষের বাড়ি এবং একটি মাদ্রাসায় আঘাত লেগেছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে।ইতিমধ্যে কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।